| লেখক | বাবর আলী |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | September 15, 2026 |
| catagory | ভ্রমণ |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 180 |
| Cover Type | Unknown Cover |
এভারেস্ট ও লোৎসে অভিযান আমার কাছে এই মুহূর্তে অনেকগুলো খণ্ড খণ্ড ক্ষণের সমষ্টি। ওই যে লোকে বলে, আমরা দিন মনে রাখি না, মনে রাখি শুধু মুহূর্তগুলোকে। লিখতে বসে তেমন কিছু মুহূর্তই ভাসছে চোখের সামনে। খুম্বু আইসফল, ভয়ালদর্শন সব তুষারফাটল, এভারেস্টের পশ্চিম গাত্র থেকে নেমে আসা বিকট সব তুষারধস, পাশের তাঁবুর আরোহীর টানা কাশির দমক, উচ্চতর হিমালয়ের হিমজব্দ রাত, লোৎসে ফেসের উপর ঝুলে থাকা তিন নম্বর ক্যাম্প, তীব্র বাতাসে জবুথবু চার নম্বর ক্যাম্প, হেডল্যাম্পের বৃত্তাকার আলোয় সামিট পুশের রাত্রে দেখা শক্ত বরফের উপর ক্রাম্পনের আঁচড়, পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দু থেকে বাকি দুনিয়া দেখতে পারার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ কিংবা বুদ্ধ পূর্ণিমার চরাচর ভেসে যাওয়া চন্দ্রালোকে লোৎসে আরোহণ-এসবই ফ্রেমের পর ফ্রেমে সরে যাচ্ছে চোখের সামনে থেকে। ফেলে আসা দিনগুলি সত্যি নানা রঙের স্মৃতিতে মোড়া। কখনোবা শুভ্র তুষার, নীল এবং শক্ত বরফ কখনোবা; কিংবা পথে আগলে থাকা বিশাল কালো পাথরের বোল্ডার। হলদে তাঁবুর গায়ের পতপত শব্দের সাথে হাওয়ায় উড়তে থাকা জাগতিক নানা রঙের প্রতিনিধত্ব করা হরেক রঙের প্রার্থনা পতাকা তো আছেই। কত রং, কত গল্প, কত বাধা, কত অভিজ্ঞতা। এমন স্মৃতি থেকে অবশ্য নিষ্কৃতি চাই না। তবে পেয়ে যাওয়ার পরে পরম ঈপ্সিত বস্তুও যে ফিকে হতে থাকে, তীব্রতা হারায় সেটার প্রমাণ পাচ্ছি। সেটাই ভালো, নিজেকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে আগের অর্জনে বুঁদ হয়ে থাকলে চলবে কেন? বাংলাদেশ থেকে নেপালের প্লেনে চেপে বসার সময় মনে হয়েছিল এই চুড়ো দুটো আমার থেকে কত দূরে। জীবনের শেষদিন অবধি হেঁটেও কি এদের শেষবিন্দু ছোঁয়া সম্ভব? নাগালের মধ্যে কি কখনো একে পাওয়া যাবে? নাকি হিল স্টেশনের ওমে বসে দূরের পাহাড় দেখার আনন্দে আচ্ছন্ন