| লেখক | শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী, ওবায়দুল ইসলাম সাগর |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 1, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 160 |
| Cover Type | পেপার ব্যাক |
আত্মার ব্যাধি গীবত আমরা সিয়াম পালন করি, সালাত আদায় করি, দান-সাদকা করি, যাকাত আদায় করি, হজ্ব পালন করি, ভালো কাজের আদেশ করি, খারাপ কাজের নিষেধ করি, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহভিত্তিক জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি আরও একটি কাজ ব্যাপকভাবে করি, তা হলো নেকি বিলানো। মনের অজান্তেই এতো সব ভালো ভালো কাজের কষ্ট করে অর্জিত নেকিগুলো বিলিয়ে দেয়াতেই যেন প্রশান্তি। ভাবুনতো! এইযে এতোগুলো ভালো কাজ আপনি করলেন, আশা রাখেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আখিরাতে আপনাকে দয়া করে আপনাকে জান্নাত দান করবেন, কিন্তু আখিরাত জীবনে গিয়েই দেখলেন, অর্জিত সেই আমল, অলরেডি আপনি নিজ হাতেই বিলিয়ে দিলেন, অন্য মানুষকে। কেবল বিলিয়েই বসে থাকলেন না, তাদের পাপগুলোও নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। জান্নাতের দারপ্রান্তে গিয়েও অবশেষে ফিরে আসতে হলো ভয়ানক সেই জাহান্নামে। কেমন হবে সেই অনুভূতি? হ্যাঁ গীবত এমনই একটি পাপ, যে পাপের কাফফারা কেবল সওয়াব দিয়েই আদায় করতে হয়। অথচ গীবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে না জেনে, আমরা অনায়াসেই এই পাপে লিপ্ত। যখন কারোর গীবত করি, মনে হয় আমি তো ভালো কাজই করছি! অথচ বুঝে উঠতে পারি না, আমি আসলে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছি। বইটি এমন এক টপিকে লেখা! যার ব্যাধিতে আক্রান্ত গোটা সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র। এমনকি দ্বীনি মহলও এই ব্যাধির সংক্রামক থেকে রেহায় পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় এই মারাত্মক ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবেই বইটি কাজ করবে ইনশাআল্লাহ। আবার অনেক ক্ষেত্রে গীবত করাও সওয়াবের কাজ, সেসব ক্ষেত্রগুলো না জানার কারণে, আমরা সওয়াব তো পায়ই না, বরং যেসব ক্ষেত্রে গীবত পাপের কারণ হয়, সেসব কাজেই আমরা অভ্যস্ত। তাই গীবত সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার। বইটিতে গীবতের খুটিনাটি বিস্তর ও সহজ সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল সা. শেষ জামানায় ফিতনার ভয়াবহ বিস্তার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘শিগগিরই ফিতনা রাশি রাশি আসতে থাকবে। ওই সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ), দাঁড়ানো ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি থেকে বেশি রক্ষিত। আর ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে বেশি বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বিন রক্ষার জন্য কোনো ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তাহলে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৬০১) এই হাদিসের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট যে ফিতনা মানুষের জন্য এক বড় সংকট। তাই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য।