| লেখক | কাইয়ুম রনজু |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | June 15, 2026 |
| catagory | সাহিত্য ও উপন্যাস |
| Language | : বাংলা |
| Number of Pages | 124 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
কিছু মনে করবেন না, আপনাকে প্রথম দেখছি! আমাকে বলছেন! আশপাশে তো আবার কাউকে দেখছি না। তাহলে তো মনে হচ্ছে আমাকেই বলছেন। হ্যাঁ, কিছুদিন হলো আমি ঢাকায় এসেছি। প্রথমে বনানী তারপর উত্তরার এই বিল্ডিংয়ে। তবে ছাদে আজ প্রথম। আমার নাম হাসি। দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল। সদ্য বিধবা। দোতলার দক্ষিণে সিয়ামের আম্মু, আমরা উকিল আপা বলি, উনি আমার একটু দূরের আত্মীয় হলেও অনেক কাছের। আমাদের একই জায়গায় বাড়ি। আমি সবসময় হাসি। আমার মন ভালো অথচ আরো বেশি করে মন ভালো রাখতে আমাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। আরও কিছু জানবেন? সরি! না, আমি আসলে এতকিছু ভেবে বলিনি। হঠাৎ করে প্রথম কাউকে দেখলে এমনই হয়। তাও যদি সে মানুষটা বিকেলের এক চিলতে নির্জন খোলা ছাদে একাকী একজন নারী হয়। মনে হচ্ছে আপনি রাগ করেছেন। আরে না, এত অল্পতে রাগ-টাগ আমার মাথায় আসে না। আপনি তো প্রায়ই বিকেলে এখানে বসেন। হ্যাঁ, আপনি জানলেন কী করে? খুব সহজ! তিনতলার পিচ্চি রওজা, ফাইয়াজ যে বাচ্চা দুটোকে আপনি পড়ান ওরা উকিল আপার ছেলে সিয়ামের সাথে খেলে। রওজা, ফাইয়াজ বলেছে, আন্টি আমাদের বাসার নকীব স্যারের মাথায় গণ্ডগোল আছে। ছাদে একা একা নিজের সাথে কথা বলে। হা হা হা! হ্যাঁ, রওজা, ফাইয়াজ, সিয়াম ওরা একই স্কুলে পড়ে। রওজা, ফাইয়াজের বাবা আমার চাচাত ভাই। বাচ্চা দুটো বেশ দুষ্টু। একদম পড়তে চায় না। ছোট বাচ্চাদের পড়াতে যা ঝামেলা! আসলে ভালোও লাগে না। যে কাজটা করে ভালো লাগে না সেটা করেন কেন? এই যা! একটু বেশি বলে ফেললাম, নকীব ভাইয়া, আজ আসি কেমন। উকিল আপা রিং দিয়েছে, ডাকছে। নকীব মনে মনে বলছে, আচমকা ঝড়ের মতো মেয়েটা এসে পুরো পরিবেশটা কেমন থমথমে করে দিল। ক্ষণিকের পরিচয়ে অবলীলায় তোতা পাখির মতো এক নাগাড়ে কত কথা বলে গেল। যাই বলি মেয়েটার কথা বলার মধ্যে অদ্ভুত একটা সরলতা আছে। আর চেহারাটা সেই অ্যাঙ্গলো ইন্ডিয়ানদের মতো। বিয়ের গন্ধ এখনও গায়ে লেগে আছে। মেয়েটা বিধবা! এত অল্পতে! খুব কষ্টের ব্যাপার! বিধবা হওয়ার কারণটা জানতে চাওয়া অভদ্রতার মধ্যে পড়ে। এরপর দেখা হলে বিধবার বিষয়টা জানতে চাইব না।