| লেখক | আবু মারয়াম মাজদী ফাতহী সায়্যিদ |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 2, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 168 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই জন্য, যিনি সবকিছুর জন্য যথেষ্ট। আর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর। ইসলামের সুবিন্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম দিক হলো-সততা ও আদর্শের উপস্থিতি-যা সুস্থ ও শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ার এবং আদর্শ ব্যক্তি ও জাতি গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। একজন আধুনিক মুসলিম যখন ইসলামের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন, তখন দেখতে পান যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরেই সাহাবায়ে কিরাম, বিশেষ করে চার খলিফা ও জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবিই হলেন সবচেয়ে উত্তম আদর্শ। সে-সকল মহান সাহাবিগণ ছিলেন সেই প্রজ্জ্বলিত মশাল, যা ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর জীবনকে আলোকিত করে রেখেছে এবং যে পর্যন্ত না আল্লাহ এই ভূমণ্ডলের উত্তরাধিকার নিজের হাতে নিয়ে নেন, সে পর্যন্ত আলোকিত করে রাখবে। তাঁদের কথা ও কর্ম ছিল উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো, যা ঘোর অন্ধকারেও পথ দেখাত। তাঁরা-আল্লাহ সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন-ছিলেন আদর্শের ভিত্তি এবং সভ্যতার উন্নতির মূল কারণ। তাঁদের মাধ্যমেই ইসলামের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাঁরা দেশে দেশে ঘুরেছেন মানুষের হিদায়েতের জন্য এবং এই ঘোষণা দিতে যে-একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও দাসত্ব করা যাবে না। এ বিষয়ে একজন কবি কতই না অসাধারণ উক্তি করেছেন- ইসলামের সোনালি ইতিহাস তো রচিত হয়েছে তাঁদের ছায়াতেই, মহিমা তো সেটাই, যা তাঁরা গড়ে তুলেছেন। আর আল্লাহর অমর কিতাবে যখন তাঁদের প্রশংসা অক্ষয়ভাবে খোদাই আছে, তখন আর মর্ত্যের কারও প্রশংসা কি কিছু বাড়াতে পারে? আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন- وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ আর যারা প্রথম দিককার মুহাজির ও আনসার এবং যারা সৎকর্মে তাঁদের অনুসারী, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। (১) তাঁরা সব ধরনের উত্তম গুণাবলির অধিকারী ছিলেন-সত্যবাদিতা ও ইখলাস, দৃঢ় বিশ্বাস ও ভালোবাসা, বিনয় ও নম্রতা, ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়, জিহাদ, মুমিনদের প্রতি দয়া এবং কাফিরদের প্রতি কঠোরতা। সেজন্যই মর্যাদায় কেউ প্রথম দিককার মুহাজির ও আনসারদের সমান নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَبِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে, তারা সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ-যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। আর আল্লাহ উভয়কে উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।