| লেখক | মুহাম্মাদ আল ইবরাহিম |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 1, 2026 |
| catagory | সাহিত্য ও উপন্যাস |
| Language | : বাংলা |
| Number of Pages | 152 |
| Cover Type | পেপার ব্যাক |
একুশ শতকের সবচেয়ে উদ্ভট মতবাদের নাম হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। নিজ ধর্মকে কীভাবে কাঁচকলা দেখিয়ে তাকে জীবনভাবনার চারদেয়ালের বাইরে নিক্ষেপ করা যায়, তার সব সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে এই মতবাদের রঙিলা মোড়কে। স্বীয় ধর্ম না মেনে অমুক ধর্মকে মানবিক বলা, তমুক বিশ্বাসকে উদারনৈতিকতা বলা আর অমুকের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খুশিমনে অংশগ্রহণ করা— আজব সব নিয়মতন্ত্রে ভরপুর এই মোহ বিশ্বাস। কিন্তু, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কি আসলেই সকল ধর্মকে এক পাল্লায় মাপতে শেখায়, নাকি নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের বেলায়ই করে এমন অদ্ভুত আচরণ? মুক্তচিন্তার অনুসারীরা কি সত্যিই মুক্তচিন্তার অধিকারী, নাকি তাদের চিন্তাও কারোর বেঁধে দেওয়া সমীকরণে আবদ্ধ? নাস্তিকতা কি নির্বিঘ্নে যে কোনো চিন্তাকেই সমর্থন করে? সত্যই কি বৌদ্ধধর্ম মুক্তচিন্তার পক্ষপাতী, গৌতম বুদ্ধ কি স্রষ্টায় অবিশ্বাসী ছিলেন? বুদ্ধবাদ ও ত্রিপিটক কি আদৌ অবিকৃত? স্যাটানিস্ট বা শয়তানের পুজারীরা কি আসলেই শয়তানের পুজারী? বাউলদের বিশ্বাস কী? সর্বধর্ম সত্য জ্ঞান করা এই মতবাদকে কি কোনো ধর্ম সত্য বলে মেনে নেয়? যাদের পূজায় আমরা অংশ নিয়ে দাঁত কেলিয়ে সেলফি তুলি, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস কতোটা জঘন্য? উগ্র হিন্দুদের আগ্রাসী মনোভাব কি শুধু মুসলিমদের নিয়েই, নাকি নিজ ধর্মাবলম্বীদের প্রতিও রয়েছে তাদের এরূপ হাজার বছরের বিদ্বেষ? যে বেদকে ঐশ্বরিক বাণী বলা হয়, বেদের ভাষ্যেই তা ঐশ্বরিক কিনা? বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পেছনে ছিল যে রামায়ণের মূখ্য ভূমিকা, সে রামায়ণের ব্যাপারেই বা হিন্দু পণ্ডিতদের অভিমত কী? কী বলেন তারা গীতার সত্যতার ব্যাপারে?এরকম হাজারো কনফিউজিং প্রশ্নের উত্তর মিলবে অন্বেষণ বইটির মাধ্যমে। উপন্যাসটির সারসংক্ষেপ,বাবা-মায়ের সাথে ভ্রমণে এসে বনের গহীনে হারিয়ে যায় ছোট্ট শিশুটি। সে কি খোঁজাখুঁজি তাকে! এখানে, সেখানে, এভাবে, সেভাবে, বহুভাবে। কিন্তু নাহ, মিলে না শিশুর হদিস। পুলিশি ইনভেস্টিগেশনের পর যা একজন সন্দেহভাজন আসামিকে হাজতে নেওয়া হয়, কিন্তু সে-ও এই অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি নয়। তাহলে কী ছিল তার দোষ? কোথায় সেই ছেলেটি? ঘটনার এক পর্যায়ে ছেলেটি নাস্তিকতার বিশ্বাস বুকে লয়ে বেড়ে ওঠতে থাকে। কিন্তু নানা যৌক্তিক সমীকরণের উপসংহারে পৌঁছে একটা সময় সে বুঝতে পারে এই চকচকে বিশ্বাস আদতে মরীচিকা মাত্র। একদমই অবাস্তব এবং অবান্তর। ফলে ত্যাগ করে সে এই ভ্রান্তিবিলাস। শুরু করে একেরপর এক ধর্ম গবেষণা এবং সত্যের পথে যাত্রা। এরপর বিস্তৃত অধ্যয়ন, অনুসন্ধানী যুক্তিবোধ আর নির্মল উপলব্ধির ফলে দিন-রাতের আবর্তনের সাথে সাথে তার চোখের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে একে একে সকল মিথ্যা ধর্মের রঙিলা খোলস। আচ্ছা, কী সেই যুক্তিগুলো? এছাড়া যে সত্যের অন্বেষণে অনবরত ছুটে চলেছে বালকটি, তার দেখা কি পাবে সে? পাবে কি সে সত্যময় স্রষ্টার দিশা? পাবে সে তার আপন পরিবারের খোঁজ? মুখ্য এই প্রশ্নটি হয়তো বইয়ের শেষ বাক্যের পরও রয়ে যাবে।