| লেখক | পিনাকী ভট্টাচার্য, রেনে দেকার্ত |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | April 29, 2026 |
| catagory | প্রবন্ধ |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 630 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ – ১ম খন্ড ❝স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ❞ বইয়ের ভূমিকা 📚 বাংলাদেশের ইতিহাস লেখার কাজ একাধারে বিপজ্জনক এবং দুরূহ। বাংলাদেশের ইতিহাসের যে বয়ানগুলো হাজির আছে,তার সিংহভাগ উদ্দেশ্যমূলক ও খণ্ডিত। এই খণ্ডিত ইতিহাসে বেশির ভাগ সময় ভীরুরা ‘নায়ক’ আর বীরেরা ‘ভিলেন’ বা ‘খলনায়ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আমাদেরকে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান যাঁদের সবচেয়ে বেশি সেই তিতুমীর,হাজী শরীয়তুল্লাহ্,সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন শিরাজীরা আমাদের খণ্ডিত সেই ইতিহাসে হয় অনুপস্থিত,নয়তো উপেক্ষিত। আমাদের ইতিহাসের তথাকথিত সেক্যুলার বয়ান দাঁড়িয়ে আছে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ আর ‘হাজার বছরের বাঙালি’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে। সেই বয়ানে জমিদারি উচ্ছেদের লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী মুসলিম লীগকে ‘সাম্প্রদায়িক বিভেদকামী’ রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করে ‘বাতিল’ করে দেওয়া হয়েছে। সেই বয়ানে শেখ মুজিবের শাসনকাল ছিল ‘স্বর্ণযুগ’। তাহলে আসুন,এবার এই বই-এর হাত ধরে প্রবেশ করি সেই কথিত স্বর্ণযুগে। দেখে নিই,কেমন ছিল সেই দিনগুলো। মুছে দেওয়া আর ভুলিয়ে দেওয়া সেই ইতিহাসের জগতে আপনাকে স্বাগত জানাই। গল্পের মতো করে লেখা সেই ইতিহাস আপনাকে কখনো বিস্মিত করবে,কখনো আতঙ্কিত করবে,কখনো-বা কাঁদাবে। আর নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারবেন,এত রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে যেই স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার তওফিক হয়েছিল,আমাদের কোন আদি পাপে সেই রাষ্ট্রটা প্রায় ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। অতীতের ভুলগুলো জেনে আগামী প্রজন্ম নতুন এক ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে- এটাই হোক সবার আকাঙ্ক্ষা। মুছে দেওয়া আর ভুলিয়ে দেওয়া মুজিব আমলের ইতিহাসের জগতে আপনাকে স্বাগত জানাই। গল্পের মতো করে লেখা এই ইতিহাস আপনাকে কখনো বিস্মিত করবে,কখনো আতঙ্কিত করবে,কখনো-বা কাঁদাবে। আর নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারবেন,এত রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে যেই স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার সামর্থ্য হয়েছিল,আমাদের কোন আদি পাপে সেই রাষ্ট্রটা প্রায় ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। 📚 ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫-এর শেখ মুজিবের শাসনামল স্বাধীন বাংলাদেশের গতিমুখ ঠিক করেছে। এইসময়ের সদ্য স্বাধীন দেশ যেভাবে রাষ্ট্রগঠনের পথে অগ্রসর হয়েছিল সেটাই আজকের বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। মুজিব আমলের যেই বয়ান বাংলাদেশের আওয়ামী বলয়ের বুদ্ধিজীবীদের হাত ধরে গড়ে উঠেছে সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের চলতি বয়ান। সেই বয়ানের উপরে দাঁড়িয়ে। আছে মুজিব শাসনের এক স্বপ্নালু ভাবমূর্তি ও ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আমরা কোনো সচেতনতা ছাড়াই বহন করি,তার উৎস বা কার্যকারণ না জেনেই। রোলা বার্তে তার মিথোলজিস বইয়ে বলেছেন,আমরা যেই বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করি তার জমিনটা তৈরি করে দেয় ইতিহাসের কোন বয়ানের মধ্যে আমরা বাস করি তা। ফলে মুজিব আমলের দুঃশাসন,রাষ্ট্র গঠনের ব্যর্থতা,নজিরবিহীন দুর্বৃত্তায়ন ও ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। ইতিহাসের কোনো একাডেমিক অন্বেষণকে অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। গ্রন্থকার ইতিহাসের ধুলো-কালি সরিয়ে সেই চেপে রাখা ইতিহাস নির্মোহভাবে আজকের প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছেন ‘স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থে। ওয়েদার মেকার “ওয়েদার মেকার” বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: বাংলাদেশের এক বিজ্ঞানী প্রফেসর টাবুল আবিষ্কার করে ফেলেন এমন একটা যন্ত্র যা আবহাওয়াকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। মরুভূমিতে তুষারপতি ঘটাতে পারে,খরতাপিত এলাকায় বৃষ্টি ঝরিয়ে দিতে পারে। উদ্ভাবক প্রফেসর টাবুল যন্ত্রটার নাম দেন ওয়েদার মেকার’। যন্ত্রটা নিয়ে প্রফেসর টাবুল আমেরিকার এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যান। সঙ্গে আছেন তার বয়স্ক পড়শি অসীমবাবু আর অসীমবাবুর কুকুর। অসীমবাবু এক মজার মানুষ। কথায় কথায় দম ফাটিয়ে হাসাতে পারেন। আমেরিকায় পৌছানাের পরেই ঘটতে থাকে শ্বাসরুদ্ধকর সব ঘটনা। চুরি হয়ে যায় ওয়েদার মেকার’। কে চুরি করলাে যন্ত্রটা? খুঁজে পাওয়া যাবে কি সেই অমূল্য যন্ত্রটা বিদেশ-বিভুইয়ে? সায়েন্স ফিকশন আর গােয়েন্দা কাহিনীর অপূর্ব মিশেল। ডিসকোর্স অন মেথড : জ্ঞানের পদ্ধতি বিষয়ে পর্যালোচনা আধুনিক ইউরোপিয় দর্শনের প্রধান জিজ্ঞাসা হচ্ছে, আমি নিশ্চিত হবো কীকরে? এটা আমরা ইউরোপের চিন্তায় প্রথম দেখি দেকার্তের রচনা ‘ডিসকোর্স অন মেথড’-এ। এখানে দেকার্ত এমন একটা জ্ঞানের ভিত্তি খোঁজার চেষ্টা করেছেন, যেটার উপর দাঁড়িয়ে তিনি অন্যান্য জ্ঞানের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা খুঁজে পাবেন। তার প্রশ্ন ছিল- আমি কীভাবে জানবো এই জগত সত্য? আমার ইন্দ্রিয় কি আমাকে সত্য জ্ঞান দিচ্ছে? তাই তিনি শুরু করলেন, যা কিছুতে তাঁর সামান্য সন্দেহ হবে সেটাকেই তিনি বাতিল ঘোষণা করবেন। কিন্তু তিনি দেখলেন, তিনি যে চিন্তা করছেন এটা তো আর মিথ্যা নয়? তাই চিন্তা করতে পারেন বলেই তিনি অস্তিত্বময়। চিন্তা বিষয়টাই অন্য সবকিছুর কর্তা হয়ে দাঁড়ালো। দেকার্তের এই ‘থিংকিং সেলফ’ই ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট আর আধুনিকতার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। তাই আজকের জগতকে জানার জন্য দেকার্ত পাঠ জরুরি।