| লেখক | মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ, মাওলানা আব্দুল্লাহ সুহাইব |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | April 30, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 969 |
| Cover Type | Unknown Cover |
হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ, আকর্ষণীয়, অত্যাধিক লাভজনক অথচ সুকঠিন ইবাদত। সব ইবাদতের জন্যই আবশ্যক কিভাবে তা সঠিকভাবে আদায় করা যায়, কিভাবে উত্তম থেকে উত্তমভাবে সুসম্পন্ন করা যায় এবং কিভাবে আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল করানো যায় তা শিখে নেওয়া। কারণ কোন ইবাদত শুধু সঠিক হওয়া আর উত্তমভাবে আদায় করা এক কথা নয়। আর বাহ্যিকভাবে একটি ইবাদত যতই উত্তম হোক, তা যদি আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল না হয় তাহলে সবই বৃথা। হজের বেলায় এ শিখে নেওয়ার গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়। কারণ— হজ একটি দীর্ঘমেয়াদী ও বহু শাখাবিশিষ্ট ইবাদত। অধিকাংশ মানুষই তা জীবনে একবারই আদায় করে থাকেন। ফলে হজ আদায়ে ভুল-ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেছেন— ‘তোমরা আমার কাছ থেকে হজের বিধি-বিধানগুলো শিখে নাও। আমি জানি না, হয়ত এরপর আর আমি হজ করতে পারব না’। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৯৭] সুতরাং সফলভাবে হজ সম্পন্ন করার জন্য প্রথমকাজ হজের বিধি-বিধান শিখে নেওয়া। দ্বিতীয়ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আলেমের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নেওয়া। তারপর সম্ভব হলে কোন আল্লাহ ওয়ালা আলেমের সাথে সাথে থাকা। তাই হজের বিধি-বিধান শেখার জন্য বিভিন্ন ভাষায় যুগযুগ ধরে শত-শহস্্র কিতাব রচিত হয়েছে। কালক্রমে বাংলা ভাষায় রচিত সাধারণ মানুষের উপযোগী হজ বিষয়ক সহজ ও সংক্ষিপ্ত বইগুলোও এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তবে বাংলা বইগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য, সহজ ও সমকালীন প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত বইয়ের পরিমাণ খুব বেশি নয়। কারণ, প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় এমন আছে যা হাজীদের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন- বাংলাদেশের মানুষ যখন জাহাজে করে হজে যেতেন, তখন তাদের ‘মীকাত’ ছিল ইয়ামান বাসীদের মত—‘য়ালামলাম’। কিন্তু এখন প্লেনে যাওয়ার কারণে তাদের ‘মীকাত’ হয় নাজদবাসীদের মত ‘কারনুল মানাযিল’। আবার কিছু বিষয় আছে যা স্থানের পরিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন মিনা ও মুযদালিফাকে মক্কা নগরীর অন্তর্ভুক্ত ধরা হবে না ভিন্ন এলাকা গণ্য করা হবে। কিছু বইয়ে এজাতীয় বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। আবার কিছু বইয়ে মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে ভারসাম্যহীন বরং বিভ্রান্তিকর আলোচনাও পাওয়া যায়। তাই পড়ার জন্য ভাল বই নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কিছু ভাল বই এমনও রয়েছে যা অপ্রসিদ্ধ কিংবা সহজলভ্য নয়। ফলে সচরাচর মানুষ তা থেকে খুব উপকৃত হতে পারছে না। তাই মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশ আস্থাভাজন, অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের বইগুলো সামনে রেখে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাওলানা আব্দুল্লাহ সুহাইব একটি হজ গাইডলাইন প্রস্তুত করেন। এতে সহজে ও সংক্ষেপে হজের অতি প্রয়োজনীয় সব মাসআলা আলোচনা ছাড়াও হজ সফরের পূর্বে বৈষয়িক, মানসিক ও রুহানী প্রস্তুতি বিষয়ে এবং হজ সমাপ্তিতে হাজী কি নিয়ে ফিরবেন এ বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মাসআলা বলার সাথে অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ পরামর্শও যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘স্টেপ বাই স্টেপ’ এমন ধারাবাহিকতার সাথে বিষয়গুলো সাজানো হয়েছে, যাতে যারা মাসআলা মনে রাখতে পারেন না, তারাও প্রতিটি আমলের সময় তখনকার করণীয় একসাথে পেয়ে যাবেন এবং দেখে দেখে তা আদায় করে নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। অভিজ্ঞতার আলোকে এ পদ্ধতিকে অনেক উপকারী ও সহজ মনে করা হচ্ছে। আল্লাহ তাআলার মেহমান হাজীদের জন্য এমন একটি কাজ প্রকাশ করতে পেরে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ পরিবার আনন্দিত, আপ্লুত ও আশাবাদী আলহামদুলিল্লাহ। বিশেষত আশাবাদী এজন্য যে, হাজীদের সামান্য সহযোগিতার বরকতে এবং তাদের দুআর উসীলায় আল্লাহ তাআলা মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ, এর সদস্যবৃন্দ ও সহযোগী-সহযাত্রীদের কবুল করে নেবেন। মূলত হজের সফরনামা হলেও কত ধরনের কত শিক্ষা যে রয়েছে! ইখলাস, লিল্লাহিয়্যাত, রূহানিয়্যাত হলো এ বইয়ের প্রাণ! পাশাপাশি আদাবে মুআশারা-মুআমালা ও আদাবে ইনসানিয়াতেরও অপূর্ব সমাহার ঘটেছে এতে। তাহযীবুল আখলাক ওয়াল আফকার ওয়াল লিসান (ভাষা, চিন্তা ও আচরণের সংশোধন)-এর জন্যও অত্যন্ত উপকারী এ বই আদাবুল ইলম ও আদাবুল মুতাআল্লিমীন বিষয়েও যথেষ্ট খোরাক রয়েছে। . হজ পালন তো সহজ। কিন্তু আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়া? আগে তো মানুষ হজ করতো ‘হাজী’ উপাধি গ্রহণের জন্য। এখন হজ করে সেলফি তোলার জন্য। হজের সময় কলবের কাইফিয়্যাত কেমন হওয়া উচিত তা তো মানুষ জানেই না, হবে কিভাবে! আমার প্রবল ধারণা, হজ কবুল হওয়ার জন্য হৃদয়ের অবস্থা তেমন হওয়া জরুরি, যেমনটা আদীব হুযুর এ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। কেননা খুশু-খুযু ও রূহানিয়্যাতই হলো প্রতিটি ইবাদতের প্রাণ। . আদীব হুযুর কত উঁচু স্তরের বুযুর্গ, তা এ বই পড়লেই স্পষ্ট হয়। হজের সময় তাঁর অন্তরের হালত যেমন ছিল, তিনি ঠিক তেমন বর্ণনা দিয়েছেন। বরং অনেক ক্ষেত্রে কলমের সংযমও করেছেন। তাছাড়া পুরো বইই ইলহামের মতো, যা তাঁর ভূমিকা পড়ে বোঝা যায়। . আমার মতে, প্রত্যেকের জন্য এ বই পাঠ করা আবশ্যক। যাদের এখনো হজের সৌভাগ্য হয়নি, তাদের জন্য উত্তম সান্ত্বনা এ বই। তাদের মনে বাইতুল্লাহর মুসাফির হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তীব্র করে তুলবে এ বই। আর আকাঙ্ক্ষা ও ব্যাকুলতা তীব্র হলেই তো উপর থেকে ডাক আসে। বাইতুল্লাহর মুসাফির হওয়ার সৌভাগ্য যাদের হয়, তাদের জন্য সফরে যাওয়ার আগে একবার হলেও এ বই পাঠ করা উচিত। হজ পালনের সময় অন্তরের কাইফিয়্যাত কেমন হতে হবে, তা জানার জন্য। কেবল হজযাত্রীদের জন্যই নয়, বাইতুল্লাহর প্রেমিক সকল মুসলিমদের জন্য এতে রয়েছে আত্মার খোরক। প্রাচীনতম ঘর বাইতুল্লাহ। প্রাচীন বাসস্থান জান্নাতেরই ছায়া বিস্তার করে শীতল করে আজ তা মুমিনের হৃদয়। দিল প্রশান্ত হয়, অন্তর ঠাণ্ডা হয়, হৃদয় উদ্বেলিত হয় রহমতের সে ছায়ায়…। অন্যদিকে তার বিরহ-বিয়োগব্যথায় মন হয়ে ওঠে মরুর পোড়া বালি যেন। প্রেমের সে আবেগ-ভালবাসা, পাওয়ার উচ্ছ্বাস-আনন্দ আর বিরহে বেদনাময় ফিরে-ফিরে তাকানোর গল্পগুলো জানতে পড়ুন এই বই। এছাড়াও বাইতুল্লাহ ও হজের আদব, আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি প্রেমপাঠ, মহান রবের প্রতি শুকরের প্রকৃতি ও আকৃতি, তার প্রতি লালনীয় বিশ্বাসসমূহ, মনুষ্যত্ব-মানবতা ও মুসলমানদের নানান আত্মিক খোরাক, সুস্থ চেতনা, সুক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, বড়দেরকে অনুসরণ-অনুকরণ এবং তাদের থেকে বরকত লাভের পদ্ধতিসহ উঠে এসেছে বইটিতে। একজন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভাল রকমের আলেমও ইন শা আল্লাহ এর পাঠে ফায়দাবিহীন অবস্থায় উঠে যাবেন না। সহজ ধরণের কথাও যে হৃদয়ে কত গভীর দাগ কেটে যেতে পারে, এই বইটি পড়লে তা বুঝতে পারবেন।