| লেখক | মাওলানা কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক, ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | September 20, 2026 |
| catagory | ইতিহাস ও ঐতিহ্য |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
উসমানি সাম্রাজ্যের ইতিহাস হিজরি সপ্তম শতাব্দী। মোঙ্গলীয়দের আক্রমণে লণ্ডভণ্ড আব্বাসীয় সালতানাত। কনস্টান্টিনোপলের খ্রিষ্টানদের সাথে লড়াইয়ে রোমের সালজুক সালতানাতের প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়। ইসলামি ইতিহাসের এক চরম দুর্যোগপূর্ণ সময়। ঠিক এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে হেসে ওঠে এক নবারুণ সূর্য। দিগ-দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে সেই সূর্যের দীপ্তি। ইসলামি সাম্রাজ্যের মেঘলা আকাশকে স্বচ্ছ এবং প্রখর রোদের আকাশে পরিণত করা সেই সূর্যের নাম ‘উসমানি সালতানাত’। ইসলামি ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায় জুড়ে ছড়িয়ে যে সালতানাতের ব্যাপ্তি। যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী দোর্দণ্ড প্রতাপের এবং ন্যায়নিষ্ঠার সাথে শাসন করে গেছেন মুসলিম বিশ্ব। একের পর এক রাজ্য বিজয় করে ইসলামকে করেছেন সমুন্নত এবং সম্প্রসারিত। সারা বিশ্ব যাদেরকে জানে ‘অটোমান সাম্রাজ্য’ নামে। দীর্ঘকাল যাদের কথা চর্চা হয়ে আসছে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। মুহাম্মদ আল-ফাতিহ তৎকালীন বিশ্বের পরাশক্তি রোমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল ছিল কনস্টান্টিনোপল। এর বিজয়ের ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, মুসলিমদের সেই সেনাবাহিনী ও সেনাপতি কতইনা উত্তম, যারা কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। ফলে এই সৌভাগ্য অর্জন করার লক্ষ্যে যুগে যুগে মুসলিম সেনাপতি ও সেনাবাহিনী কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।কিন্তু ইতিহাস অপেক্ষায় ছিল সেই মহান ব্যক্তির সাক্ষাৎলাভে, যে সেই শহরের বুকে বিজয়-কেতন ওড়াবে এবং বাস্তবায়ন করবে প্রিয়নবির ভবিষ্যৎবাণী। শতাব্দির পর শতাব্দি অতিক্রান্ত হওয়ার পর অবশেষে দেখা মিলল সেই অমিততেজা বীর পুরুষের, যিনি পৃথিবীর বুকে বিস্ময় হয়ে দেখা দিয়েছিলেন। মানবেতিহাসের যুদ্ধ-অধ্যায়ে অবিস্মরণীয় বিজয়-কৌশলের চিত্র এঁকেছিলেন। পানির জাহাজ ডাঙায় চড়িয়ে দখল করে নিয়েছিলেন রোমানদের শৌর্য-বীর্যের প্রতীক কনস্টান্টিনোপল।রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের সেই মহানায়ক ছিলেন সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ। তার জীবন-উপাখ্যান নিয়েই রচিত হয়েছে এই বইটি। সুলতান সুলায়মান (Suleiman The Magnificent) সুলতান সুলায়মান ছিলেন একাধারে দিগ্বিজয়ী বীর, বলিষ্ঠ প্রশাসক, সুচতুর কূটনীতিবিদ, একনিষ্ঠ জনসেবক ও নিষ্ঠাবান মুসলিম। ইউরোপের তুলনায় খিলাফত রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, আদালত ও শাসনব্যবস্থা ছিল অনেক বেশি উন্নত, নিরপেক্ষ, মানবিক, ন্যায়ানুগ এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। ওই সময়কার ইউরোপীয় রাজনীতি-অর্থনীতি ছিল সুলতানের নখদর্পণে। তুর্কি ভাষাসহ তিনি মোট পাঁচ ভাষায় কথা বলতে পারতেন। রণাঙ্গনেও সুলতান সুলায়মান ছিলেন সমান পারদর্শী। তাঁর শাসনামলে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটে। সুলতান আবদুল হামিদ পাঠক এ বইটি থেকে জানতে পারবেন সেই সুলতানের জীবনচরিত, যিনি মানুষের মাঝে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিয়ে, অসংখ্য বিদ্যালয়, হাসপাতাল, ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করে, মক্কা শহরকে বন্যা থেকে রক্ষার জন্য আধুনিক পানি সঞ্চালন পদ্ধতি চালু করে, ইস্তাম্বুল, ফিলিস্তিন ও মদিনা শহরকে সংযুক্ত করে ‘হিজাজ রেল-লাইন’ চালু করে আজও গোটা পৃথিবীর মাঝে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি তার সমসাময়কি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার জন্য প্রশংসিত ছিলেন।